একসময় ঢাক-ঢোলের শব্দ আর লাঠির ঠনঠন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠত ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলো। বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে কিংবা হাট-বাজারে ইউনিয়নের মোড়ে মোড়ে আয়োজন করা হতো ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার। আশপাশের একাধিক মহল্লা ও গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমাতেন এই রোমাঞ্চকর খেলা দেখতে। অথচ কালের আবর্তে এবং আধুনিক প্রযুক্তির আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার হাজার বছরের এই ঐতিহ্য।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেও চিত্রটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। তখন পুরো দিনজুড়ে তরুণ ও যুবকদের ছোটাছুটি থাকত বিভিন্ন মাঠে খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য। লাঠি খেলা ছাড়াও ফুটবল, হা-ডু-ডু, ও দাঁড়িয়াবান্ধার মতো গ্রামীণ খেলাগুলোতে মুখর থাকত সীমান্ত এলাকার খেলার মাঠগুলো।
কিন্তু বর্তমান ইন্টারনেট যুগে চিত্রটা পুরোপুরি বদলে গেছে। গ্রামের মাঠগুলো এখন প্রায় ফাঁকা। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, তরুণ সমাজ এখন দিন-রাত বুঁদ হয়ে থাকছে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটে। এর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার তরুণদের আরও বেশি বিপথগামী করে তুলছে। খেলার মাঠের সুস্থ বিনোদন ছেড়ে যুবসমাজ এখন ডিজিটাল পর্দা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখছে।
হালুয়াঘাটের এক প্রবীণ অধিবাসী আফসোস করে বলেন, “লাঠি খেলা শুধু কোনো খেলা ছিল না, এটি ছিল আমাদের বীরত্ব ও গ্রামবাংলার হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতীক। নতুন প্রজন্ম এখন লাঠি খেলা কী—তা চিনতেই পারছে না। মাঠ খালি পড়ে থাকে, ছেলেরা সব ফোনের স্ক্রিনে আর মাদকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, লাঠি খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অবিলম্বে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা প্রয়োজন। অন্যথায়, অতি শীঘ্রই গ্রামবাংলার এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাবে।