বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রসমাজ ছিল অগ্রণী শক্তি। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা—যখনই জাতি সংকটে পড়েছে, ছাত্ররা তখনই জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। অথচ স্বৈরাচার ও সুযোগসন্ধানীরা সবসময় দেশকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সাবেক কাউন্সিলর ও শিক্ষানুরাগী নেতা অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। তিনি বলেন, “সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যবই পড়লেই হবে না; তাদের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান ও বিশ্বায়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ব বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়বে।”
শনিবার সকালে নগরীর মর্যাদাপূর্ণ চট্টগ্রাম কনভেনশন সেন্টারে চিটাগাং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউট (সিএসটিআই) আয়োজিত শিক্ষার্থীদের বিদায় ও মেধা সম্মাননা অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসটিআই’র অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুব-উল-আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আমীর হোসাইন, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদিন, সিএসটিআই ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অহিদুল সাজ্জাদ মাহমুদ নিপু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক এবং আমরা চাটগাঁবাসী’র কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরান।
সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও উৎসাহে অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী, সাবেক ছাত্রনেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠানটি রূপ নেয়। মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিজেদের কৃতিত্বে অভিভূত হলেও ভবিষ্যৎ জীবন সংগ্রামের প্রত্যয়ে উজ্জীবিত ছিল।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় শিক্ষার্থীদের কেবল পেশাগত উৎকর্ষেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে প্রকৃত নেতৃত্ব।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিদায়ী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। শিক্ষার্থীরা পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জীবনে এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে—যেখানে শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের স্বপ্ন আবারও জোরালোভাবে উচ্চারিত হলো।