পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ বাস্তবায়িত ফিশনেট (FISHNET) প্রকল্পের উদ্যোগে বহু-অংশীজনীয় (মাল্টি-স্টেকহোল্ডার) মৎস্যজীবী প্ল্যাটফর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুল হাসান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অজিত দেবনাথ, উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা সুপারভাইজার (মাধ্যমিক) অনাদি কুমার বাহাদুর, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল পাশা, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মন্নান গাজী, উপজেলা ভূমি কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য, পানি কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সিবিও প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার শেখ রুসায়েদ উল্লাহ। সভায় প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার মো. শাহাজাহান আলী প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, রাঙ্গাবালী উপজেলার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণকারী ৭৩টি ট্রলারে নিরাপদ নৌযাত্রার জন্য বিভিন্ন সেফটি সরঞ্জাম এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১৮টি নৌকায় জাল, দড়ি, চাড়া ও ফ্লোটসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় সিবিওগুলোকে বিভিন্নভাবে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ১৭টি পুকুরে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, আগামী দিনে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা সুপারভাইজার বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ঝরে পড়া শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
আলোচনা পর্বে উপজেলা ভূমি কমিটির প্রতিনিধি বলেন, ভূমিহীন মৎস্যজীবীরা ধীরে ধীরে বসবাসের স্থান হারিয়ে ফেলছেন। তাই প্রকৃত ভূমিহীনদের সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, আবেদনকারীদের কাগজপত্র উপজেলা ভূমি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে দ্রুত খাসজমি বরাদ্দের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এ সময় রাঙ্গাবালী ইয়ুথ সোসাইটির সহ-সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কিছু অসাধু মৎস্যজীবী অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে দেশীয় মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহার ও নিষিদ্ধ উপায়ে মাছ আহরণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক দাপ্তরিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।