পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি–সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব জাতি–সম্প্রদায়ের সম অধিকার নিশ্চিত করা এ প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাঙামাটিতে গঠন হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলনের পৌরসভা কমিটি।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের রাঙ্গাশ্রী কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মো. জাহিদ মোস্তফাকে সভাপতি ও মো. আলী আজগর বাদশাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক মো. কামাল উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ছগির আহমেদ।
নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ–সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শাহ আলম ও মো. শাহিন আলম। সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন শাহীর উল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. লোকমান হাকিম, দপ্তর সম্পাদক খাজা মাহতাব আলম (রাজু), মহিলা সম্পাদক রাহিমা আক্তার এবং সহ–মহিলা সম্পাদক পারভীন আক্তার।
অনুষ্ঠানে জেলা কমিটির সদস্য নুরুল আবছার, আমিনুল হক, জহিরুল ইসলাম, মো. ইস্রাফিল, যুব কমিটির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান ও সদস্য সচিব আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জাহিদ মোস্তফা বলেন,
আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রাম এমন একটি এলাকা হিসেবে গড়ে উঠুক যেখানে পাহাড়ি–বাঙালি, সব জাতি–গোষ্ঠীর মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। শান্তি–সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। নতুন কমিটি সেই আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে।
প্রধান অতিথি মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো বিভাজন নয়, বরং সহাবস্থান নিশ্চিত করা। এখানে বসবাসরত সবার অধিকার ও সুযোগ সমানভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী তিন মাসের মধ্যে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে উপকমিটি গঠন করে জেলা কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষকে সম্পৃক্ত করলেই এই আন্দোলনের ভিত্তি আরও শক্ত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে সহাবস্থানের প্রশ্নটি আলোচনায় আছে। পাহাড়ি–বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা–সুবিধায় সম অধিকার চান। সম অধিকার আন্দোলনের নেতাদের দাবি, তাদের এই উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ‘সামাজিক–রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে।