প্রথম পর্বে রাজধানীর ভাটারা থানার পশ্চিম নূরেরচালা এলাকার মাদক সম্রাট ইয়াবা ডিলার আলীর অত্যাচার অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে এলাকাবাসীর আরও কিছু অভিযোগ, আতঙ্কের চিত্র এবং প্রশাসনের প্রতি তাদের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি বিভিন্ন সময় কৌশল পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, প্রকাশ্যে কেউ মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ কারণে অনেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে মাদক বিস্তারের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষন্ন সময় অভিযান পরিচালনার খবর মিললেও অভিযোগে উল্লিখিত প্রকৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও টেকসই ব্যবস্থা খুব কমই দেখা যায়। তবে এ দাবিরও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা মাদকসংক্রান্ত তথ্য গোপনে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে থাকছে— অভিযোগের উৎস, স্থানীয়দের বক্তব্য, সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া এবং তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য।