বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ শালুকগাড়ী গ্রামে ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার (৩২) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার দাবি করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা।
গত ২৫ জুন সকালে অহেদ আলীর ভাড়া বাড়ি থেকে সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ২–৩ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত্যুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে পুলিশ।
নিহত সুমাইয়া আশেকপুর ইউনিয়নের পারতেখুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে তার প্রথম বিয়ে হয়, পরে তালাকপ্রাপ্ত হন। এরপর মাঝিড়া ইউনিয়নের ডোমনপুকুর টিকাদারপাড়ার বাপ্পী নামের এক যুবকের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। কিন্তু বাপ্পী মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে সুমাইয়ার পরিচয় হয় রাজু নামের এক রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ীর সঙ্গে। পরে রাজুর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে তারা শালুকগাড়ী গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সুমাইয়ার মা ও চাচা অভিযোগ করেছেন, রাজু ও তার সহযোগীরা মাদক ব্যবসায় সুমাইয়াকে ব্যবহার করছিল। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তাদের দাবি, লাশ উদ্ধারের সময় গেঞ্জির বুকের অংশে রক্ত, হাতে জখমের চিহ্ন ছিলো। কিন্তু পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদনে এসব তথ্য গোপন করে আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
লাশ উদ্ধারের সময় ঘরের দরজা ভিতর থেকে সিটকিনি আটকানো ছিলো। অন্য একটি ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো ছিলো। ঘরে ঝুলে পড়ার মতো কোনো উঁচু বস্তু পাওয়া যায়নি, তবে লাশের পাশে কোলবালিশ পড়ে ছিলো। স্থানীয়রা জানান, লাশ উদ্ধারের কয়েকদিন আগে রাতে অজ্ঞাত কেউ ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র ওলট-পালট করে, আবার লাশ পাওয়া ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে।
শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুমাইয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো হত্যা মামলা হয়নি।
ঘটনার পর থেকেই রাজু ও তার ভাতিজা পরিচয়ে ভাড়া বাসায় আসা রাকিবুল ইসলাম পলাতক। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ ও রাজুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছে।