‘ডাকাতির ঘটনা শুনে বউ-বাচ্চা নিয়ে আতঙ্কে আছি, কখন যে ঘরে ডাকাত আসে।’ কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী মো. বাবুল। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আলী আকবর রনী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা কোনো দিন ঘটেনি। এভাবে যদি ডাকাতির ঘটনা ঘটতে থাকে, তাহলে এলাকায় বসবাস করাই নিরাপদ নয়।’ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামে এক প্রবাসীর বাড়িতে অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মারধর করে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শনিবার (২৫ জুলাই) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রবাসী আলী আব্বাস জানান, সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দরজার তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তাঁর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখা হয়। এরপর দলের অন্য সদস্যরা বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায়। তিনি বলেন, ডাকাতরা সবাই ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করে। তাঁর স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন টেনে ছিঁড়ে নেয়। পরে আলমারি ভেঙে ভেতরে থাকা প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে। তাঁর ছেলের কক্ষে ঢুকে অস্ত্রের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও টাকাও ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহবধূ নাসরিন সুলতানা বলেন, কীভাবে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেছে, তা বুঝতে পারেননি। তাঁর ধারণা, চালকসহ মোট নয়জন এ ঘটনায় অংশ নিয়েছিল। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় কারও সহযোগিতা না থাকলে এভাবে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করা কঠিন। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ডাকাতরা দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে আগে থেকে অপেক্ষমাণ একটি মাইক্রোবাসে ওঠার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী বখতিয়ার উদ্দিন বকুল। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পটিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করেন। তাঁর ধারণা, একটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।