কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর আওতাধীন ফুলবাড়ী উপজেলার ০৪টি বিওপির টহলদল পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, গাঁজা ও ৪টি মোটরসাইকেল এবং ১টি বাইসাইকেল জব্দ করেছে।
বিজিবি জানায়, বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যে তারা জানতে পারেন, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ১৬.০০ ও ১৮:২০ ঘটিকায় বালারহাট বিওপির টহলদল চওড়াবাড়ি ও বালাটারী এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের মোটরসাইকেলযোগে আসতে দেখে বিজিবি টহলদল তাদের থামতে সংকেত দেয়। এ সময় সন্দেহজনক ব্যক্তিরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদকদ্রব্য বহনে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
অপরদিকে, ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ১২ : ৫০ ঘটিকায় গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন গোড়কমন্ডল বাজার, ১৯ : ৩০ ঘটিকায় অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন কাশেম বাজার এবং ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ০৪ : ১৫ ঘটিকায় শিমুলবাড়ী বিওপির আওতাধীন জকুরতল নামক স্থানে পৃথক ০৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলযোগে আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে চোরাকারবারিরা সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১০১ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও ৯.০২ কেজি গাঁজাসহ ২টি মোটরসাইকেল ও ১টি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ১২৮ বোতল, যার সিজার মূল্য ৫১ হাজার ২০০টাকা, গাঁজা ৯.০২ কেজি, যার সিজার মূল্য ৩১ হাজার ৫৭০ টাকা। মোটরসাইকেল ৪টি, যার সিজার মূল্য ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং বাইসাইকেল ১টি, যার সিজার মূল্য ৩ হাজার টাকা। সর্বমোট জব্দকৃত মালামালের সিজার মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭৭০ টাকা।
এছাড়াও, মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”