দীর্ঘ সময় পর আবারও সিলেট সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২ মে শনিবারের এই সফরকে ঘিরে সিলেট জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বইছে নতুন প্রত্যাশার হাওয়া। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, জনসভা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটন, প্রবাসী অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে এ অঞ্চলের গুরুত্ব জাতীয় পরিসরে বিশেষভাবে বিবেচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সম্ভাবনার তুলনায় উন্নয়নের গতি এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বন্যা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি হয়ে উঠেছে উন্নয়ন প্রত্যাশার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
খবর অনুযায়ী, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, নদী খনন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগর ও গ্রামীণ জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নাগরিক জীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি করেছে। বর্ষা এলেই নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ অবস্থায় কার্যকর ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল কিংবা হাওরাঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বহন করলেও অবকাঠামো ও পরিকল্পনার অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর সফর এ খাতে নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশা মানুষের।
তবে শুধু প্রকল্প ঘোষণা করলেই চলবে না; প্রয়োজন সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা। অতীতে বহু উন্নয়ন প্রকল্প ধীরগতি, দুর্নীতি কিংবা সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই নতুন প্রকল্পগুলো যেন নির্ধারিত সময়ে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সিলেটবাসীর জন্য নতুন আশার বার্তা বয়ে আনুক—এটাই সবার প্রত্যাশা। উন্নয়ন যেন কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের জীবনমানের বাস্তব পরিবর্তনে প্রতিফলিত হয়, সেটিই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। সিলেটের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির শক্তিতে রূপ দিতে হলে এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, সুপরিকল্পিত বাস্তবায়ন এবং জনমুখী উন্নয়ন দর্শন।