নীলফামারীর ডিমলায় ১৫ জুলাই উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের মোনাকাশা বাইতুন নূর জামে মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন ও ডাঙ্গাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এ ঘটনার পর শোকের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের দাবি, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, আব্দুল মালেক ধর্মপ্রাণ, সৎ ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি নিয়মিত ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দিতেন। তাই তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের কিছু আলামত, মৃত্যুর সময়কার পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা কয়েকটি বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এছাড়া দড়ি ও টেবিল ব্যবহারের বিষয়েও তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট সব আলামত, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।
এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদের মতো একটি পবিত্র স্থানে সংঘটিত এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা জরুরি। যদি এটি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে এর পেছনের কারণ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন,মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।