চায়ের দোকানের আড্ডা মানেই সাধারণত গল্প-গুজব, হইচই কিংবা রাজনৈতিক আলোচনা। তবে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মাথাফাটা বাজারের ‘খোকন কফি হাউজ ও পথ পাঠাগার’ সেই চিরচেনা ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখানে এক কাপ চায়ের সঙ্গে মিলছে বই পড়ার অনন্য সুযোগ। চায়ে চুমুক দিতে দিতেই পাঠকরা ডুবে যাচ্ছেন প্রিয় লেখকের বইয়ের পাতায়। পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে সম্প্রতি পাঠাগার প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হালুয়াঘাট ইসলামি মিশন মহিলা দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে এবং হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদকের সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইদুল ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা ও অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার স্থান নয়, এটি একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। ‘পথ পাঠাগার’-এর মতো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এর অগ্রযাত্রায় আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পথ পাঠাগারের পরিচালক তৌফিকুর রহমান খোকন, সঙ্গীতশিল্পী মোস্তফা কামাল, সনাক-টিআইবি নালিতাবাড়ীর সাবেক ইয়েস দলনেতা আবু রাসেল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন এবং পাঠাগারের সদস্য নাজমুল, অয়ন তালুকদার, রিয়াজ, লিটন ও ফিরোজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে নতুন প্রজন্ম যখন বই পড়া থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, তখন বাজারের একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে পাঠাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ সত্যিই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী। এটি শুধু পাঠচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করছে না, বরং জ্ঞানচর্চা, সচেতনতা ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের মতে, ‘পথ পাঠাগার’ ইতোমধ্যেই এলাকার তরুণদের বইমুখী করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।