নওগাঁবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নামফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা কার্যক্রমের ঐতিহাসিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলক উন্মোচন শেষে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক লাইব্রেরি এবং কম্পিউটার ল্যাব ঘুরে দেখেন।অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য সুধী সমাবেশ ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।আব্দুল খালেক, সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদস্য, ইউজিসি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ নওগাঁর ৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশা প্রকাশ করে বলেন, “নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করবে। গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশসেরা ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আজ নওগাঁবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও মেধার উন্নয়নে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলী তাঁর বক্তব্যে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নওগাঁসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘরের কাছে উচ্চশিক্ষার এমন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মেধা বিকাশের পথ যেমন সুগম হলো, তেমনি উত্তরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো।