1. masudkhan89@yahoo.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@gmail.com : Masud Khan : Masud Khan
চরনোয়াবাদে জমি বিরোধ: হামলা, উচ্ছেদের চেষ্টা ও পাল্টাপাল্টি মামলার অভিযোগ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও দুটি যানবাহন জব্দ বরিশালের সদর উপজেলায় সিন্ডিকেট জুটি: ইউএনও ফরিদা সুলতানার তদবিরে গোপালগঞ্জের সাদিকুর রহমান উপজেলা প্রকৌশলী ছাতকে চৈলতার ঢালায় চেলা নদীর পাড় কেটে অবৈধ বালু উত্তোলন ২৬ জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা পারিবারিক কলহের জেরে বিষ পানে প্রাণ হারালেন মিম আক্তার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ লালমনিরহাটে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, অনিয়মে জরিমানা শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে লিডার্স -এর প্রকল্পের উপজেলা অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আত্রাই উপজেলার দরিদ্র ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে মাননীয় সংসদ সদস্যের অনুদানের চেক প্রদান। অতি বৃষ্টিতে খুলনার চার জেলায় আট হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত মাদকমুক্ত গোয়াইনঘাট গঠনে থানায় ঐক্য পরিষদের ১১ দফা স্মারকলিপি!

চরনোয়াবাদে জমি বিরোধ: হামলা, উচ্ছেদের চেষ্টা ও পাল্টাপাল্টি মামলার অভিযোগ

reporter মোঃ আফজাল তজুমদ্দিন
calendar প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ

ভোলার পৌরসভার উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, উচ্ছেদের চেষ্টা এবং পাল্টাপাল্টি মামলার অভিযোগ উঠেছে। এক পক্ষের দাবি, প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের হামলায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারাই হামলার শিকার হয়েছেন এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের পরিবারের কয়েকজন সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত থাকায় তাদের প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেনের পরিবার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে বসবাস করে আসছে। একই এলাকায় মোসলেউদ্দিনের পরিবারও পূর্বে ক্রয় করা জমিতে বসতি স্থাপন করেছে।

লোকমানের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষ ক্রয়কৃত জমির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে রেখেছে। এ নিয়ে সত্তরের দশকে দায়ের হওয়া একটি দেওয়ানি মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, স্থানীয় সালিশ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ এপ্রিল দুপুরে লোকমান হোসেন নিজ জমির সীমানায় পাইলিংয়ের কাজ করতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর প্রতিপক্ষের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে লোকমান গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় তাদের ঘরে ঢুকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় লোকমানের স্ত্রী তাসনুর বেগম বাদী হয়ে ভোলা আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় শরিফ ওরফে টিম্পা, সাখাওয়াত, রিয়াজ ওরফে মিরাজ এবং নাজমীন সুলতানাকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের করা মামলায় তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে তারা বিচার না পেয়ে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

লোকমান হোসেনের স্ত্রী তাসনুর বেগম বলেন, “তারা জোর করে আমাদের জমি দখল করতে চায়। হামলার পর এখন উল্টো মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিন ও তার ছেলে মিরাজ হোসেন। তারা বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি ক্রয় করে বসবাস করছি। জমি সংক্রান্ত মামলায় আমাদের পক্ষে রায় হয়েছে, যা বর্তমানে আপিলে বিচারাধীন। ২৪ এপ্রিলের ঘটনায় আমরাই হামলার শিকার হয়েছি। আমাদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে এবং স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরাও থানায় মামলা করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। বিষয়টি বর্তমানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের মামলায় বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চরমান মামলার বিষয়ে কথা বরতে তাদের সাড়া মেলেনি।

জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং উচ্ছেদের অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com