চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে আবারও ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে, যা এখন যেন এক ‘হট সিট’ এ পরিণত হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে মহানগরের আটটি থানায় ১০ জন ওসির বদলির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কর্ণফুলী ও খুলশী থানায় একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। এমনকি একজন কর্মকর্তা ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ফের বদলির আদেশ পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই রদবদলে কোতোয়ালী, কর্ণফুলী, খুলশী, ডবলমুরিং, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও সদরঘাট থানার ওসি পদ পরিবর্তন হয়েছে। একই সময়ে অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা ওসি পদ হারিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত যেসব ঘটনার কারণে ওসিদের বদলি করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কোতোয়ালী থানার সাবেক ওসি আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ। এই বিষয়ে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
উল্লেখ করার মতো অন্য একটি ঘটনা হলো, গত ১৩ জুন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা করার অভিযোগের ঘটনায় খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি স্থানান্তরিত হয়ে বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে যোগদান করে, তবে নতুন দায়িত্বে থাকাকালীন মুখোমুখি হন নতুন সমালোচনার।
বিশেষত, কর্ণফুলী থানার নতুন ওসি কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারও দায়িত্ব গ্রহণের আগে বদলির শিকার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের কারণে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে।
সিএমপি কমিশনারের অফিস আদেশে ‘জনস্বার্থে’ রদবদলের কথা বলা হলেও, পরপর বিতর্কে জড়ানো কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও দ্রুত বদলির ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের ওপর জনমানসে এক প্রকার অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।