ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় মাদকদ্রব্যসহ আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ দাবি করেছে, আটক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।
নিহত মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (৩০) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শনিবার গভীর রাতে তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে প্রান্তের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আটক করার পর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর বলেন, শনিবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল আমার ভাতিজাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে সকালে জানতে পারি, সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেছেন। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আমি এখনও অবগত নই।
অন্যদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, আটক ব্যক্তির প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন। আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তও চলমান রয়েছে।