সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার ঘোলা ত্রিমুখী নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতু নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আজ রবিবার কোলা-ঘোলা ও কল্যাণপুর সংযোগস্থলে প্রস্তাবিত সেতুর সম্ভাব্য নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ।
সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের উদ্যোগ ও ডি.ও. লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে সচিবের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত রয়েছেন।
প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য সেতু নির্মাণের কারিগরি বিষয়, নদীর প্রস্থ ও গভীরতা, সংযোগ সড়কের অবস্থা, ভূমির উপযোগিতা এবং প্রকল্পের সার্বিক সম্ভাব্যতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করছেন। এ সময় সচিব স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ী সেতুর অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ঘোলা ত্রিমুখী নদীর দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যা দূর হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থান পরিদর্শন শেষে প্রকল্পটির কারিগরি ও সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু বাস্তবায়নের পথে আজকের পরিদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আশাশুনীর সর্বস্তরের মানুষ।