পর্যটননগরী কক্সবাজারকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মাণাধীন সড়কের কাজ পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। পরিদর্শনকালে তিনি সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি, গুণগত মান ও সার্বিক বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে লুৎফুর রহমান কাজল সরেজমিনে বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, পর্যটননগরী কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত রয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকায় কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সড়ক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার কিংবা কাজে গাফিলতি করা যাবে না। জনগণের অর্থে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, একটি আধুনিক ও টেকসই সড়ক শুধু মানুষের যাতায়াত সহজ করে না, বরং একটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও গতিশীল করে। কক্সবাজারের সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি পর্যটকরাও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটননগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন শুধু সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের পর্যটননগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি কক্সবাজারের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও অগ্রগতির বিষয়ে নিয়মিত তদারকির কথাও জানান।