1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
এক যুগ ধরে বিনাবেতনে পাঠদান করেন মিরপুর বিচারপতি ড. রাধা বিনোদপাল মডেল স্কুলের ৭ শিক্ষক - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
কাহালুতে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জের রূপসী কাজীপাড়ায় ডাইং মিলের বিষাক্ত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে কুমিল্লায় লবণ বোঝাই কভার্ড ভ্যান  ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৫ পলাশবাড়ীতে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ রাম মুর্তি নির্মান কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা উদ্বেগ আয়নাপুর বাজারে পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থানে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন খুলনায় গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতন : পুলিশ দম্পত্তিকে করাগারে পাঠানোর নির্দেশ আমার বাবা আমার শক্তি সাহস ও প্রেরণার উৎস পরিবেশ সংরক্ষণে কাপ্তাই জোনের বিশেষ উদ্যোগ: প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালিত পলাশ শিল্পাঞ্চল সরকারি কলেজ মাঠে নাজমুল হোসেন সোহেলের বৃক্ষরোপণ ঘোড়াঘাটে কীটনাশক ট্যাবলেট সেবনে কৃষকের মৃত্যু

এক যুগ ধরে বিনাবেতনে পাঠদান করেন মিরপুর বিচারপতি ড. রাধা বিনোদপাল মডেল স্কুলের ৭ শিক্ষক

reporter শরিফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া
calendar প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ

নেই মাসিক বেতন, নেই সরকারী অনুদান বিনাবেতনে ২০১১ সাল থেকে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার নির্ভৃতপল্লী কাকিলাদহের বিচারপতি ড. রাধা বিনোদপাল মডেল স্কুলের ৭ শিক্ষক প্রায় দুই শ ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করে আসছেন। কেউ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, কেউ কলেজ থেকে সর্বচ্চ ডিগ্রী নিয়ে অন্যকোন কর্মে যোগ না দিয়ে জেনেও স্বেচ্ছায় ওই বিদ্যালয়ে গ্রামের কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে জীবনের সর্বচ্চ ঝুঁকি নিয়েছেন। জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের আন্তজার্তিক ট্রাইবুন্যালের বিচারপতি কুষ্টিয়ার মিরপুরের কৃতি সন্তান প্রয়াত বিচারপতি ড. রাধা বিনোদপালের স্মৃতিকে ধরে রাখতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এলাকার মানুষ রাধা বিনোদপালের জমির উপর ২০১১ সালে একটি প্রাথমিক মডেল স্কুল নির্মাণ করেন। এর পর থেকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে দেশের প্রচলিত শিক্ষানীতিমালা মেনে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ পাঠদান করে আসছেন। কিন্তু বিদ্যালয়টি নিবন্ধন ও এমপিও ভুক্তির জন্য গত এক যুগ ধরে তারা এলাকার জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন-নিবেদন করে আসছেন কিন্তু কোন কিছুই হয়নি। বর্তমানে প্রথম শ্রেনী থেকে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় ২শ ছাত্র-ছাত্রী এখানে নিয়মিত অধ্যায়ন করে। বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর কম্পিউটার ল্যাবসহ ছায়াগণ পরিবেশ, উন্মুক্ত খেলার মাঠসহ প্রায় সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা আছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন জানান, আমরা লেখাপড়া শেষ করে ইচ্ছে করলে চাকরী, ব্যবসার পেছনে দৌড়াতে পারতাম। আমাদের প্রধান শিক্ষক ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছে তিনিও ভালো চাকরী করলে করতে পারতেন কিন্তু আমরা শুধু এ বিখ্যাত মানুষটির স্বৃতিকে ধরে রাখতে এলাকার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এখানে শিক্ষকতা করে আসছি। কিন্তু গত এক যুগ ধরে কোন বেতন, বোনাস, সরকারী অনুদান কোন কিছুই পায় না। তার পরও নিয়মিত অধ্যায়ন করিয়ে আসছি। যদি কোন দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু নজর আসে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয় তা হলে আমাদের ৭ জনের একটু রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে এ আশায়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাা আরাফাত আমান আজিজ’র সাথে বিদ্যালয়ের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। উনি বিদ্যালয়ে এখনও পরিদর্শনে আসেননি। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি যত দ্রুত এমপিও ভুক্ত, সরকারীকরণ করা হলে আমাদের বিদ্যালয়ের এই সাত জন শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবিকা নির্বাহের একটা ব্যবস্থা হবে পাশাপাশি এখানে পাঠদানে আরও গতি আসবে এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়তে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, চলতি বছর গত ৩ মার্চ খুলনা বিভাগী উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্রে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ খ্রীঃ হতে আগামী ৫ বছরের জন্য ৯টি শর্তে একটি নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়েছে। আমি আশা করি এর মধ্যেই আমাদের বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত ও সরকারীকরণ করা হবে। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু সদয় হবেন। কথা হয় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামীমা আক্তার লিমার সাথে তিনি জানান, বাড়ী থেকে হেটেই বেশি আসি। বিদ্যালয়ে কোন পিওন নেই। কোন সরকারী কর্মকর্তা, কোন অতিথি, কোন পরিদর্শক আসলে আমরাই তাদের পানি খাওয়ানো থেকে আপ্যায়ন করিয়ে থাকি। মাস শেষে কিছু না থাকলেও অনেক আশা নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। তবুও ভালো লাগে যে শিশুদের শিক্ষার আলো দিতে পারছি। গত ১৬ জুন মঙ্গলবার বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছুন্নত আলী, সদরপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার তুহিনুল ইসলাম মানিক পরিদর্শনে আসেন। তাদেরকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। তারা অনেক খোঁজ খবর রাখেন। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন, মোঃ ছহির উদ্দিন, সহকারী শিক্ষিখা শামীমা আক্তার লিমা, রিজিয়া খাতুন, মাহমুদা নাজনিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়টিকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবী এলাকাবাসীর।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com