জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতালেব কাজী ও তাঁর সহযোগী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ‘মাটি খেকো’ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ই আগস্ট রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের ব্রক্ষ্মোত্তর এলাকার ফসলি জমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা যেখানে মরিচ, মিষ্টি আলু, ভুট্টা ও মটরশুঁটি চাষ করেছেন, ঠিক সেই ফসলি জমি থেকেই এই মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব কাজী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা।
মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর (কাঁকড়া গাড়ি)। অধিকাংশ গাড়ির চালক শিশু-কিশোর এবং তাদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনভিজ্ঞ চালকদের বেপরোয়া গতির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাস্থলে কর্মরত ভেকু ও ট্রাক্টর চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, তারা মোতালেব কাজীর চুক্তিতে কাজ করছেন। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মেম্বার মোতালেব কাজী “আমি ব্যস্ত এখন জামালপুর জেলা শহরে আছি” বলে মাটি কাটার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি চালকদের ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেই ফোন কেটে দেন।
এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মোতালেব মেম্বার এলাকায় বেশ প্রভাবশালী এবং বড় বংশের লোক হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। ভারী মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের চলাচলে কৃষি পণ্য ও যানবাহন চলাচলের রাস্তাগুলো একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে; কাঁচা ও পাকা কার্পেটিংযুক্ত রাস্তায় ফাটল ধরেছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট দিয়ে তাকে প্রতিনিধি বানিয়েছি আমাদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু তিনি এখন আমাদের ফসলি জমি আর প্রকৃতি গিলে খাচ্ছেন।” অভিযোগ রয়েছে, তিনি এর আগেও যমুনা নদীর বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন। নদী ভাঙনকবলিত এই এলাকায় এভাবে মাটি কাটলে চলমান বর্ষা ও বন্যায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং ‘মাটি খেকো’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।