প্রায় দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সরকারি পাতারহাট রসিক চন্দ্র (আরসি) কলেজের দুই শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে কলেজে দায়িত্ব পালন না করলেও তারা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজটির দর্শন বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাদাত হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. শাহাদাত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ সময় তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে। তাদের অনুপস্থিতির কারণে কলেজের অন্যান্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ পড়ছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও তাদের কাছে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও তারা কোনো জবাব দেননি।
বিষয়টি সমাধানের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে মাউশির সহকারী পরিচালকের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠান কলেজের অধ্যক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ওই দুই শিক্ষক কর্মজীবন নির্বাহী আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি মন্ত্রণালয় জানে। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইলিয়াস শাহ কবির জানান, ওই দুই শিক্ষককে একাধিকবার চিঠি দেওয়া ও শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি। বিষয়টি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে খান মুহাম্মদ আল মাহমুদের মাধ্যমে অবগত আছেন। আগামী রোববারই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।