কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাগরিবের আজানের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রাত ১ টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। এ ব্যাপারে জামায়াতের ওলামাবিভাগের জেলা সেক্রেটারী ইয়াছির আরাফাত ও মামলার বাদী রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের তৌকির ও আব্দুল খালেকসহ ভিডিওতে দেখা গেছে এমন ৬-৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত ১শ ১শ ৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর নিশি।চত করে বলেছেন, যে এজাহার লেখা চলছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াধিন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় পুলিশি প্রটোকলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মুফতি আমির হামজা সমর্থকরা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল বলেন, গাড়িবহরটি সমাবেশ স্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি গাড়ি থেকে কয়েকজন লাঠি হাতে নেমে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ছয় রাস্তার মোড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে মাগরিবের আজানের সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল জামায়াতের নেতাকর্মী গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূরকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল। সমাপনী বক্তব্যের সময় এমপির গাড়িবহর সেখানে আসে। এ সময় কয়েকজন জামায়াত কর্মী তাঁদের সামনে এসে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং তাঁরাই প্রথমে হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথমে সমাবেশস্থলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকজন লাঠি হাতে এগিয়ে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হাসান বলেন, এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, প্রথম দফার সংঘর্ষের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা চালায়। ঘটনার পর ছয় রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।