সাদা বকের সারির মতো যেন পালক ফুলিয়ে হাওয়ায় দুলছে কাশফুল। এ যেন অনেকটা জায়গা জুড়ে সাদার মেলা বসিয়েছে কাশফুল।শরৎকাল এলেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া এলাকায় কাশফুলের সৌন্দর্যের টানে আসা প্রকৃতি প্রেমীদের ভিড় জমেছে।শরৎকাল এলেই ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো এলাকা জুড়ে।প্রকৃতি যোগ করে ভিন্ন এক মাত্রা।
প্রায় দুই থেকে তিন মাসব্যাপী কাশফুলের সাদা-ধূসর সাম্রাজ্য সবাইকে মুগ্ধ করে।মনোমুগ্ধকর অপরূপ এই দৃশ্য দেখা যায় শাহজাদপুর পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া এলাকায়। ভাদ্র মাসের শেষদিকে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। এসময় পুরো এলাকা সাদা হয়ে যায়। কার্তিক মাস পর্যন্ত কাশফুল থাকে।প্রায় দুই বিঘা জায়গাজুড়ে কাশফুল ফুটেছে। লম্বা-চিরল সবুজ পাতার বুক থেকে বেরিয়ে আসা কাশফুল থোকায় থোকায় দুলছে ,আবার কোথাও ঠাস বোনা গুচ্ছ।হঠাৎ মনে হবে, সেখানে সাদা চাদর বিছানো। শুভ্র আকাশে শীতল হওয়ায় ভেসে আসছে কাশের বনে।হাওয়ায় নেচে উঠছে কাশফুল।
ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেলে করে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সের মানুষ এই কাশবনে বেড়াতে আসছে।
বিকেল হলেই প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসে। ছবি তোলে, ভিডিও করে।’ এ মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। কেউ আবার দু-চারটি কাশফুল ছিঁড়ে তোড়ার মতো তৈরি করছেন। আশপাশের শিশুরা কাশবনে খেলায় মেতে উঠেছে। এ যেন কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় মনে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীরা।বর্ষার কদমফুলের দিন শেষ হতে না হতেই শরতের কাশফুলের দেখা মেলে। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের।এসব কাশবনের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিন ঢল নামছে, ছোট বড় সবাই দেখার জন্য ছুটে আসছে।
যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে মুক্ত আনন্দ পেতে প্রতিনিয়ত মানুষ ছুটে আসছে এ কাশবনে। বিশেষ করে শেষ বিকেলে কাশবনের সৌন্দর্য আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। গ্রামীণ পরিবেশ ও সূর্যাস্তের সময় বেশি মানুষ ঘুরতে আসে। এ কারণে বেশিরভাগ পর্যটক আসছেন বিকেলে।শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।শহর থেকে কাশবনে বেড়াতে এসেছেন নুপুর কুমার রায়। তিনি বলেন, একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে বেশ ভালোই লাগে।কান্দাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃলোকমান হাকিম বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মানুষ এখানে আসেন। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তবে এ ফুল বেশিদিন থাকে না। ১/২ মাসের মধ্যেই ফুল বাতাসে উড়ে যায়। কয়েকদিন পর এ ফুল আর দেখা যাবে না।
ঘুরতে আসা মোছাঃ সুমাইয়া খাতুন বলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার কান্দাপাড়া এলাকায় বিকেল হলেই কাশফুলের সৌন্দর্যের টানে বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমী তরুণ তরুণীদের ভিড় জমে। এসময় তারা কাশফুলের উন্মাদনায় মেতে উঠে ছবি তোলে, ভিডিওধারণ করে। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্য। পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো একটি জায়গা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে কাশফুল অন্যতম। বাংলাদেশের সব নদ-নদীর তীরে প্রাকৃতিক জলাশয়ের ধারে বেশি কাশফুল জন্মে। কাশবন শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের মনের তৃপ্তি মেটায় না।
এ কাশবন দিয়ে আগে অনেক মানুষ ঘর তৈরি করতেন। এখন পানের বরজে ছাউনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে রান্নার জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শাহজাদপুর পৌরসভার কান্দাপাড়ার জায়গাটি অনেক সুন্দর। সবমিলিয়ে কাশফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয় সবাই।