গাজীপুরের কোনাবাড়ি নতুন বাজার ভূমি জরিপ অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত পেশকার (অফিস সহকারী) ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি,হয়রানি এবং দালাল চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রে আরও কয়েকজন পেশকার জড়িত আছেন।সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক অসহায় নারীর জমির মাঠ পর্চা সংক্রান্ত নথিতে কৃত্রিম ভুল দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন পেশকার ইমাম হোসেন।
দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় অফিসের সিঁড়িতে বসে কান্নাকাটি করছেন সেই অসহায় নারী। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, জরিপ অফিসটিতে একটি সুসংগঠিত দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ইমাম হোসেনের মৌন সমর্থনে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন পেশকার ইমাম হোসেন নিজেও।
অফিসের ভিতরে সরকারি কাজের নামে চলছে প্রকাশ্যে দরকষাকষি। সাধারণ মানুষ জরুরি মাঠ পর্চা (বিআরএস) বা জরিপের কাজ পেতে বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত অর্থ গুনতে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছেএমন অভিযোগ রয়েছে অহরহ।গত বেশ কিছুদিন ধরে অফিসের অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত চক্রটি তথ্য গোপন রাখতে এবং আলোচনা এড়াতে সাংবাদিকদের নানা ভাবে হুমকি ও বাধার মুখে ফেলছে।অন্যদিকে, বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বলতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসি হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেশকার ইমাম হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান উনার খতিয়ান ভূল আছে সরকারি ফি দিলেই কাজ হয়ে যাবে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ধরনের দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত পেশকার ইমাম হোসেন ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে ভূমি জরিপ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।উল্লেখ্য, ভূমি অফিসে দুর্নীতির শিকার হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি দুদক বা জাতীয় অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় (জিআরএস) অভিযোগ করা যায়।