কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ৫ হাজার পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৭ জুলাই) মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৫১৫টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (KSrelief) অর্থায়নে পরিচালিত এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে আয়োজিত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হেফাজাতুর রহমান টিপু, আব্দুর রহিম, মো. বোরহান উদ্দীন এবং সমাজসেবক মনসুর উদ্দীন আহমেদ। আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এমন সময়ে খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। মানবিক এ উদ্যোগের জন্য আইএসডিই বাংলাদেশ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ।”
আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার পরিবারের সবার কাছেই এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা চরম সংকটে ছিলেন। এ সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং কয়েক দিনের জন্য হলেও খাদ্যের দুশ্চিন্তা কমিয়েছে।
আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল, বন্যাকবলিত এলাকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ সুবিধাভোগীর মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি ভবিষ্যতেও দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।