বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র | গণতান্ত্রিক উন্নত সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এ দেশটি স্বাধীন হয়েছে | কিন্তু আজও উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র পুরোপুরি হতে পারেনি | তাই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার এবং সরকারি চাকরিজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিমূলক কর্মসম্পাদনই একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। উন্নত রাষ্ট্র কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে না, বরং সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ওপরই এর প্রকৃত ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে সমন্বিত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উন্নত রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবেন এটাই প্রত্যাশা। তাঁদের উচিত সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। জনগণকে হয়রানিমুক্ত, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা প্রদান, ঘুষ ও দুর্নীতি থেকে বিরত থাকা, সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে প্রশাসনকে আরও কার্যকর করা জরুরি।
প্রতিটি সরকারি দপ্তরে কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের কার্যকর ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেবার মান পরিমাপের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সরকার, সরকারি চাকরিজীবী এবং সাধারণ জনগণ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নাগরিকদের আইন মেনে চলা, কর প্রদান, পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
পরিশেষে বলা যায়, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, প্রয়োজন সততা, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দেশপ্রেমভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কৃতি। সরকার যদি দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করে এবং সরকারি চাকরিজীবীরা জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন, তবে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অবশ্যই অর্জন করা সম্ভব। তাই সরকারকে যেমন দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঠিক তেমনি সচেষ্ট থাকতে হবে সকলের অনিয়ম দূর করতে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিতে | সরকারি চাকরিজীবীদের মন মানসিকতা জাগ্রত করতে হবে দেশপ্রেমে |