কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আদরের ছলে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী আবু বক্কর নামের এক বৃদ্ধকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর সালুয়া নিজ গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।আটককৃত আবু বক্কর (৬৫) উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের উত্তর সালুয়া গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে। আটকের পর এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ওইদিন ১১সেপ্টেম্বর শুক্রবারঅ দুপুর দেড়টার দিকে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৭।
জানা যায়, এর আগের দিন ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটিকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান আবু বক্কর। একপর্যায়ে আদরের ছলে শিশুটির সঙ্গে অনৈতিক আচরণ ও ধর্ষণ করা হয়।
বিষয়টি টের পেয়ে শিশুটির মা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। এরপর তার মা কয়েকজন প্রতিবেশীকে নিয়ে আবু বক্করের কাছে যান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো কথা বলেননি। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটিকে দ্রুত কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করেন। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আবু বক্কর কিছুদিন পরপর শিশুদের ডেকে নিয়ে আদরের ছলে যৌন নির্যাতন করেন। আদর করাই তাঁর কৌশল। শিশুদের বিষয়ে তাঁর স্বভাব খারাপ হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।শিশুটির মা বলেন, ‘আমরা আবু বক্করের চরিত্র সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু আমার ঘরের এক ঘর পরই তাঁর ঘর। সব সময় তো চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয় না। আমার মেয়ে আমার কাছে এসে কান্না করছিল। পরে নিজেই আবু বক্করের নাম বলে। শরীরে ব্যথার কথাও বলে। সারা শরীরের অনেক স্থানে দাগ হয়ে গিয়েছিল।
আবু বক্কর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিছুদিন পরপর প্রতিবেশী শিশুরা আবু বক্করের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, অথচ বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করেছি, এবার আর ছাড় দেওয়া যাবে না। ছাড় পেলে হয়তো পরদিন অন্য কোনো শিশুর গায়ে হাত দেবে। এ কারণে মামলা করা হয়েছে।এর আগেও আশপাশের কয়েকটি শিশুকে আদর করার ছলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে আবু বক্করের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের কাছে টেনে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত এক বছরে অন্তত দুটি শিশুকে ঘরে নিয়ে নানাভাবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল আবু বক্করের বিরুদ্ধে। একটি শিশুর বয়স সাড়ে চার বছর। অন্য শিশুর বয়স সাত বছর। সামাজিক সমস্যার কথা বিবেচনায় এনে আগের কোনো ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ করা হয়নি। একজন অভিভাবক মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন। আরেকজন অভিভাবক ঘরে গিয়ে আবু বক্করকে মারধর করে আসেন।
আবু বক্করের স্ত্রী সন্তানেরা বাড়িতে নেই। তবে পরিবারের সদস্যরাও বলেন, শিশুদের নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মন্দ কথা শোনার পর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। প্রতিবারই আবু বক্কর দাবি করতেন, তিনি শুধু শিশুদের আদর করার জন্য কাছে টেনে নেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অন্য কোনো শিশুকে এভাবে আদর না করার জন্য সতর্কও করেছিলেন।পুলিশ হেফাজতে আবু বক্কর সাংবাদিকদের বলেন, শিশুদের কাছে নিয়ে আদর করতে তাঁর ভালো লাগে। এ কারণে তিনি তাদের কাছে টেনে নেন। আদরকে যৌন হয়রানি বলা যায় না বলে দাবি তাঁর।এদিকে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের এমন গুরুতর অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আবু বক্কর কিছুদিন পরপর শিশুদের ডেকে নিয়ে আদরের ছলে যৌন নির্যাতন করেন। আদর করাই তাঁর কৌশল। শিশুদের বিষয়ে তাঁর স্বভাব খারাপ হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। আগের ঘটনাগুলো জানতেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, না, পুলিশকে জানানো হয়নি। শিশু ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জনতার হাতে আটকের পর শিশুটির মায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আবু বক্করকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।