মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের একটি লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অন্তত ১০ জন যাত্রী আটকা পড়েন। প্রায় ৪৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লিফটের দরজা কেটে তাঁদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনা যেভাবে ঘটল হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের স্টাফসহ ১০ জন যাত্রী লিফটে চড়ে ওপরের তলায় যাচ্ছিলেন। লিফটটি দোতলা ও তিনতলার মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ভেতরে থাকা যাত্রীরা লিফট সচল করার চেষ্টা করলেও দরজা খোলেনি।
বদ্ধ লিফটের ভেতর বাতাস ও অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে আটকে পড়া ব্যক্তিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন। বাইরে থাকা অন্যান্য রোগী ও স্বজনরা চিৎকার শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।
উদ্ধার অভিযান খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায়। লিফটের বিশেষ চাবি দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা ব্যর্থ হলে, উদ্ধারকারীরা হাইড্রোলিক স্প্রেডার ও কাটার ব্যবহার করে লিফটের দরজা কেটে ফেলেন।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য: ”আমরা খবর পাওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। লিফটটি দুটি তলার মাঝখানে আটকে থাকায় ভেতরে বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আটকে পড়া মানুষগুলো প্রচণ্ড গরমে ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। আমরা দ্রুত আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে লিফটের লক ও দরজা কেটে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনি। ভাগ্যবশত সবাই সুস্থ আছেন।”
ক্ষোভ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উদ্ধার হওয়া এক রোগীর স্বজন জানান, “লিফটে ঢোকার পরই হঠাৎ বিকট শব্দে এটা বন্ধ হয়ে যায়। ভেতরে কোনো আলো ছিল না, ফ্যানও চলছিল না। আমরা ভেবেছিলাম আর বাঁচব না। হাসপাতালের মতো জায়গায় লিফটের এই অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।”
এদিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটগুলো প্রায়ই এরকম যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং লিফটগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ খতিয়ে দেখতে একটি কারিগরি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সাময়িকভাবে লিফটটি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।