বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নৌভ্রমণে বের হয়েছিল কিশোর সাকিবুল। উদ্দেশ্য ছিল কিছুটা সময় আনন্দে কাটানো। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। নৌকা থেকে বংশাই নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাছৈর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায়।
জানা যায়, বিকাল প্রায় ৫টার দিকে আশুলিয়ার বংশাই নদীতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নৌকায় ঘুরতে যায় সাকিবুল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় কিংবা নদীর গভীরতা ও স্রোতের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই সে পানির নিচে তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
নিখোঁজ সাকিবুল আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাছৈর গ্রামের বাসিন্দা সানোয়ার হোসেনের ছেলে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তানকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী নদীর তীরে ভিড় জমান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জেলেরা নৌকা, বেরজাল ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত টানা অনুসন্ধান চালানো হলেও সাকিবুলের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে অন্ধকার নেমে আসায় অভিযান স্থগিত করা হয়।
সকালে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সকাল প্রায় ৯টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি নদীর তীরে নিয়ে আসা হলে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
উদ্ধারের খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার এসআই আতাউর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, এটি প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বংশাই নদীতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ গোসল ও নৌভ্রমণে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা নদীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানান।
সাকিবুলের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, সাকিবুল ছিল ভদ্র, শান্ত স্বভাবের এবং সবার প্রিয় একটি ছেলে। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদীতে নৌভ্রমণ বা গোসলের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন, শিশু-কিশোরদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।