মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচঢালাই উঠে গিয়ে ইট, বালু ও সুরকি বেরিয়ে এসেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক ও সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের এমন অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর আগে উপজেলা এলজিইডির তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নিম্নমানের রাবিশ ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই কয়েক বছরের মধ্যেই সড়কটি আবারও ভেঙে পড়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিংগাইর-মানিকনগর-সিরাজপুর হাট পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মানিকনগর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হয়। তবে মানিকনগর থেকে সিরাজপুর বাজার পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। কাদাপানিতে একাকার হয়ে পড়ে পুরো রাস্তা। ফলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় পথচারী ও আইনজীবী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে এটি এখন রাস্তার চেয়ে খালের মতো মনে হয়। মোটরসাইকেলে আসতে গিয়ে জামাকাপড় ভিজে গেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মঈনুল ইসলাম খান শান্তের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু রায়হান জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। খানাখন্দের কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। তাই দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
অটোরিকশা চালক আবু বক্কর, আমির হোসেন ও নায়েব আলী বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয়, তার বড় অংশই গাড়ি মেরামতে ব্যয় করতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম সামদানী বলেন, “আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”