বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামের বিভিন্ন রাস্তাঘাট। সড়কে পানি জমে কাদা ও পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানির মধ্য দিয়েই পথচারী, রিকশা-ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তামাই গ্রামের কয়েকটি সড়কে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। কোথাও সড়কের বড় অংশ পানিতে ডুবে আছে, আবার কোথাও কাদা জমে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই এসব সড়কে পানি জমে যায়। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে সরে যেতে পারে না। ফলে বৃষ্টির পরও দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় পানি জমে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তার এই অবস্থা হয়। পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়। শিশু, বয়স্ক ও ছাত্র ছাত্রীদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা বলেন, “শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে প্রতিবছর একই সমস্যায় পড়তে হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি জমে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ না থাকা এবং বিদ্যমান নালা-নর্দমার অপ্রতুলতাকে তারা দেখছেন। তবে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না? থাকলে সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, দ্রুত জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি সড়কের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ড্রেন, কালভার্ট বা পানি যাওয়ার পথ থাকলে সেগুলো সচল করার উদ্যোগ নিতে হবে।
ছবিতে তামাইয়ের জলাবদ্ধতার চিত্র বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে স্থানীয়দের চলাচলের দৃশ্যই বলে দিচ্ছে ভোগান্তির মাত্রা। একটি ছবিতে দেখা যায়, পানিভেজা সড়ক দিয়ে একজন ভ্যানচালক ভ্যান ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন। অন্য ছবিতে মোটরসাইকেল ও পথচারীদের পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে তামাই গ্রামের সাবেক মেম্বার হাফিজ উদ্দিন বলেন, তামাই গ্রামে ঘনবসতি হওয়ার কারনে কোন ডোবা বা পুকুর নেই। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এ সমস্যা দুরী করনে ড্রেনের ব্যবস্থা করলে এ সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব।