1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডির, আছে দুর্নীতির অভিযোগ - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
খানজাহানআলী মাজারের সেই কুমিরটিকে সরিয়ে আনা হয়েছে খুলনায় টিআর-এর রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, পুরনো ইট বিক্রির বিষয় তদন্তের দাবি মেয়ের জীবন বাঁচাতে কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, বাধা অর্থসংকট শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ কুষ্টিয়ায় মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহের আয়োজনে উপজেলা বিজিসিসি (Block Grant Co-ordination Committee) কমিটির অনুষ্ঠিত হয় শ্রীনগরে ইসলামি আন্দোলনের উপজেলা তৃণমূল দায়িত্বশীল সদস্য তারবিয়াত অনুষ্ঠিত খুলনা ডিবির অভিযানে গ্রেনেড বাবুর সহযোগী সহ আটক ৪, মাদক ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জামিনে বেরিয়েই বাদী-সাক্ষীসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা, মির্জা ফখরুলকে রুহিয়াবাসীর অভূতপূর্ব গণসংবর্ধনা

বিআরটিএ মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ওএসডির, আছে দুর্নীতির অভিযোগ

reporter আজহারুল আলম শিপু,সুনামগঞ্জ 
calendar প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৪১ অপরাহ্ণ

নিয়ম না মেনে যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানের অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করে ঢাকার হেড অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিয়ম না মেনে একটি গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়ায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বদলির আদেশ দেয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোটরযান পরিদর্শক (অ. দা.) দেলোয়ার হোসেন। তবে, এই অফিস আদেশের ব্যাপারে জানতে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কেউই। একাধিকবার বলার পর বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, “এইটা (অফিস আদেশ) দিয়ে আর কি করবেন, তার তো শাস্তি যা হওয়ার হয়েই গেছে। সে তো চলে গেছে আর এসব করার (নিউজ) কি দরকার।” তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘একটা গাড়ির ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয়ে’ অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের কারণে তাকে সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি বিস্তারিত খুলে বলতে রাজি হননি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেল অফিসে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু কী কারণে বদলি করা হয়েছে সেই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, সর্বশেষ বিআরটিএ’র ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ২৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৯ জন।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ৮০জনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থী বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনকে জনপ্রতি ৩ হাজার ৫শ টাকা করে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন। ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে পাস করানোর অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
এই বিষয়ে একাধিক পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাযায়, বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় টাকা না দিলে ইচ্ছে করে ফেল করানো হয়, এমন একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল। বাধ্য হয়েই অনেক প্রার্থীকে মোটরযান পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে টাকা দিতে হয় বলে জানান তারা। পরীক্ষার অংশগ্রহণ শেষে ওই ৮০ জন পরীক্ষার্থীদের ‘টিম লিডার’ জানান, ৮০ জনের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা করে জনপ্রতি দেলোয়ার স্যারকে দেওয়া হয়েছে। শুনলাম স্যার নাকি বদলি হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা তো চাই না টাকা দিতে। কিন্তু জানি, টাকা না দিলে পাস করাবে না। যার কারণে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পরিদর্শক দেলোয়ার সাহেবকে না দিলে আমাদের লাইসেন্স হতোই না।
অন্য একজন পরীক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমার পরীক্ষার সব প্রস্তুতি ভালো ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে জানতে পারি, টাকা না দিলে রিপোর্ট আটকে দেবে বা কোনো না কোনো অজুহাতে ফেল করাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আমিও ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছি।
আরেকজন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জানান, শুনছি কেউ কেউ প্রথমে টাকা না দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের ফেল করানো হয়। পরে তারা টাকা দিয়ে আবার পরীক্ষা দিলে তবেই পাস করতে পেরেছে। এই কারণে বাধ্য হয়েই আমাদের মতো অন্যদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে।

টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে  গত বুধবার বিকেলে মোটরযান পরিদর্শক (অ.দা.) দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে কেউ একটা টাকাও দেয়নি। নিয়ম মেনেই সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফিটনেস প্রদানে রুলস মেইনটেইন না করার কথাও স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুর রশীদ বলেন, এই সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ আমাকে জানায় নি। কে টিটিসি থেকে পরীক্ষা দিসে বা কে কোথায় থেকে পরীক্ষা দিয়েছে তা আমরা দেখি না। আমরা দেখি সে পরীক্ষার্থী কি-না।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com