1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
নওগাঁয় ধর্ষণ মামলায় দুই আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
খানজাহানআলী মাজারের সেই কুমিরটিকে সরিয়ে আনা হয়েছে খুলনায় টিআর-এর রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, পুরনো ইট বিক্রির বিষয় তদন্তের দাবি মেয়ের জীবন বাঁচাতে কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, বাধা অর্থসংকট শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ কুষ্টিয়ায় মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহের আয়োজনে উপজেলা বিজিসিসি (Block Grant Co-ordination Committee) কমিটির অনুষ্ঠিত হয় শ্রীনগরে ইসলামি আন্দোলনের উপজেলা তৃণমূল দায়িত্বশীল সদস্য তারবিয়াত অনুষ্ঠিত খুলনা ডিবির অভিযানে গ্রেনেড বাবুর সহযোগী সহ আটক ৪, মাদক ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জামিনে বেরিয়েই বাদী-সাক্ষীসহ ৭ জনকে কুপিয়ে জখম ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা, মির্জা ফখরুলকে রুহিয়াবাসীর অভূতপূর্ব গণসংবর্ধনা

নওগাঁয় ধর্ষণ মামলায় দুই আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

reporter মোঃ মোস্তফা আলী, নওগাঁ জেলা 
calendar প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৫, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

৩১ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
অপহরণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- মিশু (১৯) এবং পিংকি (৩০)। এছাড়া এ মামলায় দশ বছরের আটোকাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলেন হুজাইফা এবং সাজু আহমেদ।

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোরশেদ (৩৫) এবং রবিউল (৩৮) এছাড়া এ মামলায় সুলতানা পারভিন নামে এক নারীকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।

হত্যা মামলা:
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার খাদাইল গ্রামের নাজমুল নামের এক স্কুল ছাত্রকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী এবং হত্যা করে লাশ গুম করে একটি চক্র। এ ঘটনায় নিহত নাজমুলের পিতা বদলগাছী থানায় একই গ্রামের মিশু (১৯), পিংকি (৩০) ও শিশু হুজাইফা (১৪) ও সাজু আহম্মেদর(১৪) নামে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা থাকায় তাদের নামে মামালা দায়ের করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলায় ২০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মিশু ও পিংকিকে মৃত্যুদণ্ড এবং হুজাইফা ও সাজু আহমেদকে দশ বছরের আটকাদেশ প্রদান করেন আদালত। এছাড়া শিশুদ্বয়ের বর্তমান বয়স আঠারো বছরের উর্ধ্বে হওয়ায় তাদেরসহ মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত দুই আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে প্রেরণেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পিংকি মোবাইলে ছদ্মনাম ব্যবহার করে নাজমুলকে (১৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টায় পিংকি নাজমুলকে দেখা করার কথা বলে কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নারিকেল বাড়ি রোডে ডেকে নেয়। সেখান থেকে আবার পিংকি নাজমুলকে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানার কেসের মোড় রেললাইনে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৭ নভেম্বর সকাল ১০টায় আসামিরা সকলে মৃত নাজমুলের নিকটে থাকা মোবাইল ফোন হতে নাজমুলের বাবার মোবাইলে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে উক্ত স্থানে আসামিরা নাজমুলকে খুন করে। মৃত নাজমুলের লাশ গোপন করার জন্য আসামি মিশু বাড়ি থেকে সাদা রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে এসে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় নাজমুলের মৃত দেহটি বস্তায় ভরে আক্কেলপুর রেলগেটের উত্তর পাশে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখে।

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা:
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন মোরশেদ ও রবিউল নামের দুই যুবক। পরবর্তীতে ওই মেয়েকে রবিউল বিয়ে না করলে মেয়ের পরিবার তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। বিয়ের পরে রবিউল ওই মেয়ের স্বামীর কাছে ধর্ষণের ভিডিও এবং অশ্লীল ছবি পাঠায়। ধর্ষণের ভিডিও এবং ছবি দেখে ওই মেয়ের স্বামী তাকে তালাক দেন। পরবর্তীতে মেয়ের পরিবার রবিউলকে বিয়ে করতে বললে রবিউল বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান। কিছুদিন পরে ঢাকার বিক্রমপুরে ওই মেয়ের দ্বিতীয় বিয়ে হলে রবিউল তার দ্বিতীয় স্বামীর কাছেও ধর্ষণের ভিডিও এবং অশ্লীল ছবি পাঠান। তখন তার দ্বিতীয় স্বামী আইনি পরামর্শের কথা বলে ওই মেয়েকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করলে মান্দা থানা পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা থাকার রিপোর্ট প্রদান করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলায় ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মোরশেদ এবং রবিউল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলায় সুলতানা পারভিন নামে আরেক আসামীর অভিযোগ প্রমাণিত না হয় আদালত তাকে খালাস প্রদান করেছেন।
উভয় মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিশেষ কুশলি এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com