সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে কৃষকের প্রাণহানি রোধে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, আগামী শুকনো মৌসুমে হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বজ্রনিরোধ টাওয়ার স্থাপন করা হবে এবং আকাশের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কৃষকদের সতর্ক করতে সাইরেন বাজানোর যন্ত্র বসানো হবে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত তিন মাস মেয়াদি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, “হাওরের কৃষকদের নিরাপত্তায় আমরা বজ্রপাত প্রতিরোধে আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। যেমন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, তেমনি হাওরাঞ্চলেও নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, বজ্রনিরোধ টাওয়ার ও সতর্কতামূলক সাইরেন ব্যবস্থা চালু করা হবে। আকাশের অবস্থা খারাপ হলে সাইরেন বাজবে, তখন কৃষকরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে পারবেন।”
তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা (অ্যাসেসমেন্ট) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে বহু কৃষকের মৃত্যু এবং গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে ক্ষতিপূরণ সহায়তাও বাড়ানো হয়েছে। এবার থেকে বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, “হাওরের কৃষকদের জীবনের মূল্য অর্থ দিয়ে পূরণ সম্ভব নয়। তবে সরকারের দায়িত্ব হলো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আগে সহায়তার পরিমাণ কম ছিল, সেটি বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।”
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এমপি বলেন, কৃষি ও কৃষককে টিকিয়ে রাখতেই সরকার সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুর রহমান-এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগ, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।