বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সুরক্ষিত প্রশাসনিক এলাকা থেকে পাঁচটি এসির আউটডোর ইউনিটের মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
৩ জুন ২০২৬ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারটি এবং উপজেলা কৃষি অফিসের একটি এসির কার্যকারিতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসির আউটডোর ইউনিট থেকে দামি যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে যায়। উপজেলা কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার ছাদে উঠে এ ধরনের চুরির ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধার বা জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, উপজেলা কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাইটগার্ড নিয়োগ থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োজিত প্রহরীরা রাতের পরিবর্তে শুধুমাত্র অফিস চলাকালীন সময়ে দায়িত্ব পালন করেন, যার ফলে রাতের বেলায় পুরো প্রশাসনিক ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এছাড়া উপজেলা চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও সেগুলো নিয়মিত মনিটরিং করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সরকারি বরাদ্দে নিরাপত্তা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, এসি বিকল হওয়ার পর ছাদে গিয়ে দেখা গেছে আউটডোর ইউনিটের যন্ত্রাংশগুলো কেটে খুলে নেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে দায়সারা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চুরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সাথে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নাইটগার্ডদের শোকজ করা হয়েছে। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, শুধুমাত্র শোকজ বা জিডি করে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক এলাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা কর্মীদের জবাবদিহিতার অভাবই এই চুরির মূল কারণ। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের ওপর এমন নগ্ন থাবা আর না পড়ে।
উপজেলা কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে চুরির ঘটনা প্রশাসনিক ভবনের সুরক্ষা ব্যবস্থার নাজুক অবস্থাকেই স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। জনগণের করের টাকায় কেনা সরকারি সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্বের অংশ। যদি প্রশাসনিক ভবনের ছাদই অরক্ষিত থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকাটা অমূলক নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে সরকারি সম্পদের এ ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি অব্যাহত থাকবে, যা শেষ পর্যন্ত সরকারি সেবার মান কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকেই কেবল দীর্ঘায়িত করবে।