ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি কখনো ফোন রিসিভ করেন না; গ্রাম পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সপ্তাহে দুই দিন কর্মস্থলে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) হিসেবে দায়িত্বরত মিসেস শারমিন শিমু নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকছেন না। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সচল রাখতে যে কাগজপত্রে প্রতিদিন স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়, সেই কাজগুলোতে চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
সেবা প্রত্যাশীরা জানান, জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, গর্ভবতী মায়ের কার্ড—এ ধরনের যেকোনো সেবা পেতে হলে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর অপরিহার্য। কিন্তু তিন থেকে চার দিন ধরে অফিসে এসেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ভুক্তভোগী বলেন, “প্রয়োজনে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। ফোন দিলে তিনি ধরেন না। শেষে বিরক্ত হয়ে ফিরে যেতে হয়।”
আরও জানা গেছে, যেসব এলাকার মানুষের সুবিধাভোগী কার্ড বা ভাতা সংক্রান্ত জরুরি কাজ থাকে, তারা প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে খুঁজে না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কেউ কেউ কাগজপত্র নিয়ে অফিসে এসে শুধু চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ সদস্য বলেন, “উনি সপ্তাহে দুই দিন আসেন। বাকি দিনগুলোতে অফিস বন্ধ থাকলেও তিনি থাকেন না। ফোন দিলে রিসিভ করেন না।” ইউনিয়নের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শারমিন শিমুকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনিও সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। তারা দ্রুত বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।
নান্নার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এখন প্রশ্ন তুলেছেন—একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন অফিস করলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কীভাবে সচল থাকবে? তাদের দাবি, প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক এবং সেবা গ্রহণে হয়রানি বন্ধ করা হোক।