কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ৮ নম্বর বরকইট ইউনিয়নের বরকইট শীল বাড়িতে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নারী ওই বাড়ির বাসিন্দা। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় বাড়িতে একাই ছিলেন নারী
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বরকইট শীল বাড়িতে ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের তিন ছেলে রয়েছেন, যারা বাড়ির বাইরে থাকেন। ঘটনার সময় ওই নারীর স্বামীও বাড়িতে ছিলেন না।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ওই নারী বাড়িতে একা অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের কথা বলছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে পাশের একটি বাড়ির লোকজনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তবে স্থানীয়দের এমন ধারণার বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি। ফলে ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হামলা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তদন্তে পুলিশ
ঘটনার পর চান্দিনা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। হামলার কারণ, ঘটনার সময় বাড়িতে কারা যাতায়াত করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে হামলা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এদিকে নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।