সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এক নারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। নিহত নারী দিলারা বেগম (৫৪) উপজেলার নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার বাসিন্দা। গত ১৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে তিনি ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
এ ঘটনায় পরদিন ১৭ মে গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১২) দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারায় রুজু করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়াইনঘাট থানার এক উপপরিদর্শককে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে যৌথ অভিযানে প্রধান আসামি হারুন রশিদ (৩৫)-কে উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের মাটিকাপা এলাকায় তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। জানা যায়, ওমানে অবস্থানকালে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে শত্রুতায় রূপ নেয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে ভারী বৃষ্টির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা ভিকটিমের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ভিকটিমের মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হলে দিলারা বেগম বাধা দেন। তখন তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।