কুষ্টিয়া শহরতলী বাড়াদী গ্রামের কানাবিল মোড় এলাকায় মিম খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধু’কে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত স্বামী আকাশের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মিম খাতুনের। দাম্পত্য জীবনে নিহত মিম খাতুনের ৫ বছর বয়সী একটি কন্যা শিশু রয়েছে। অভাবী সংসারে সাহায্য করতে মিম হস্তশিল্পের কাজ করতো জানায় পরিবার। নিহতের ছোট ভাই সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের আবির হোসেন(১৮)র অভিযোগ, ‘আমার দুলাভাই বাড়াদী গ্রামের মৃত: আক্কাস আলী’র ছেলে আকাশ একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। আকাশ প্রায়ই মাদক কেনার টাকার জন্য বোন মিম’কে নির্যাতন করত। গত ০১ জুন সোমবার দুপুরে বোন মিম আমাদের বাড়ীতে থাকা অবস্থায় আকাশ এসে টাকা চেয়ে না পাওয়ায় বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বোন মিম তার মোবাইল ফোনটি নেয়ার জন্য আকাশের বাসায় যায়। এসময় আকাশ বোন মিমকে বেধড়ক মারপিট করে এবং গলাটিপে শ^াসরোধ করে অচেতন হয়ে পড়লে মিমকে ঘড়ের ডাবের সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চলানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে সেখান থেকে অচেতন ও মুমুর্ষ অবস্থায় মিমকে উদ্ধার করে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মিমকে মৃত: ঘোষনা করেন। আমি আমার বোনকে এই নৃসংশ হত্যাকান্ডের বিচার চায়’। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করেন কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই কাজী সামসুল আলম। তিনি জানান, নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত জখম রয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো: কবীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘বুধবার সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামীর নির্যাতনে আহত এক গৃহবধুর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে। মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।