কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা ১০টার দিকে কলেজের আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকাল ১০টায় কলেজ মাঠে ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান সংসদ সদস্য আমির হামজা। এসময় উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাঠের গাছ কাটার প্রতিবাদে স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্যকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন, যা উপস্থিত সুধীজন ও দর্শকদের চমকে দেয়।
ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১২টার দিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এডমিনের বরাত দিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, “কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা-কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মী।” এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্যের ফেসবুক পোস্টটিকে সম্পূর্ণ ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মুজাক্কির রাব্বি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য সাহেব ছাত্রদলকে জড়িয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা সত্য নয়। মূলত সরকারি কলেজের গাছ কাটার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। সেখানে কাউকে অবরুদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসত্য বক্তব্য সাধারণ মানুষ আশা করে না। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস ও অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন করা হলে সংসদ সদস্য আমির হামজা কিছুটা কৌশলগত অবস্থান নেন। প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে তিনি বলেন, “আমার ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট হবে কেন, আমার মোবাইল তো আমার হাতে?” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, গাছ কাটা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। তিনি বলেন, “আমি বলেছি গাছ যেগুলো কাটা হয়েছে তার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং প্রয়োজনে দ্বিগুণ গাছ লাগানো হোক।” বাইরের কিছু ছেলেপেলে এসে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, কলেজে সামান্য ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সংসদ সদস্য স্বাভাবিকভাবেই সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে গাছ কাটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভ এবং সংসদ সদস্যের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিবেশ রক্ষায় কলেজের গাছ কাটার সাথে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।