কুয়েতে কর্মরত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (STML/BMC) ভুক্তভোগী সদস্যদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং মানবিক সংকট নিরসনের আকুল আবেদন।
উপস্থিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। আজ আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট জনবল অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে কুয়েত পুনর্গঠন এবং দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রেখে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে আমাদের (STML/কন্টিনজেন্টভুক্ত) বেশ কিছু সদস্য চরম বৈষম্য ও মানবেতর পরিস্থিতির শিকার।
আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান এবং প্রবাসী কল্যাণ। য়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
চুক্তি ও ভাতার বৈষম্য দূরীকরণ: কুয়েত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী আমাদের যে সকল সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক ভাতা পাওয়ার কথা, তার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক।
কর্মপরিবেশ ও আইনি সুরক্ষা: অনেক সদস্য কর্মক্ষেত্রে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, ডিউটি আওয়ারের অতিরিক্ত কাজ এবং যথাযথ আবাসন ও চিকিৎসার অভাবের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই সংকটগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। ছুটি ও দেশে ফেরার নিশ্চয়তা: চুক্তি শেষ হওয়ার পরও অনেককে দেশে ফিরতে বা সময়মতো ছুটি পেতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মানবিক কারণে প্রবাসীদের ছুটির প্রক্রিয়া সহজ করা হোক।নতুন চুক্তি নবায়নে স্বচ্ছতা: সম্প্রতি বাংলাদেশ ও কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক প্রটোকল চুক্তি নবায়ন হয়েছে, সেখানে যেন মাঠপর্যায়ের ভুক্তভোগী সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
আমাদের আকুল আবেদন আমরা দেশের সম্মান রক্ষার্থে দূর প্রবাসে জীবন বাজি রেখে কাজ করছি। দেশের রেমিট্যান্সে আমাদেরও অবদান রয়েছে। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না; শুধু আমাদের প্রাপ্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদাটুকু ফেরত চাই। বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কুয়েত সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমাদের এই কষ্টের অবসান ঘটান।আপনাদের (সাংবাদিকদের) একটি কলম ও একটি প্রতিবেদন আমাদের হাজারো ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।