প্রকাশ্য দিবালোকে এক অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকার ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা! তাও আবার পবিত্র কুরআন শিক্ষার আলো ছড়ানো এক শিক্ষিকার ওপর। শুধু মারধরই নয়, তলপেটে লাথি মেরে নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে গর্ভের ৩ মাসের সন্তানকে!এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের বোলদিয়া (বিলপাড়া) গ্রামে। ভুক্তভোগী রোকসানা আক্তার, স্থানীয় একটি মসজিদ ভিত্তিক কুরআন শিক্ষা স্কুলের শিক্ষিকা। প্রতিদিনের মতো স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু পথেই ওত পেতে ছিল বখাটে ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
ভুক্তভোগী রুকসানা জানান, রুহিয়া পশ্চম ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে তমিজ উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে কু-প্রস্তাবসহ উত্যক্ত করে আসছিল। অন্যায় আবদারের প্রতিবাদ করায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে আমার পথরোধ করে তমিজ ও তার সহযোগীরা। প্রধান আসামির হুকুমে সাইফুল্লাহসহ অন্য আসামিরা আমার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
মারধরের একপর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, প্রধান আসামি তমিজ উদ্দীন আমার গর্ভে থাকা ৩ মাসের সন্তানকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তলপেটে সজোরে লাথি মারে। একই সাথে চলে শ্লীলতাহানি এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা। আমার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে রুহিয়া থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন পত্যক্ষদর্শী জানান, ভুক্তভোগী রুকসানা প্রায় প্রতিদিনই ঐ পথ দিয়ে নিজ কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রুকসানা নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত তমিজউদ্দীন মেম্বার তার পথরোধ করে মারপিট শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর তলপেটে সজোরে লাথি মারেন। তারা আরও বলেন, ভুক্তভোগী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা তার সাথে এমন নির্মম ও নিষ্ঠুর বর্বরতা মোটেও ঠিক হয়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত তমিজ উদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি পুরো অভিযোগটি অস্কীকার করে বলেন, গত তিন মাস আগে রুকসানার মেয়ে এক ছেলের সাথে পালিয়ে যায় এবং সেই ছেলে আমার বাসায় কাজ করত। সেই সুবাদে মেয়ে পক্ষ আমার কাছে আসেন এবং আমি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করি ও তাদের কাছে সময় চাই। কিন্তু মেয়ে পক্ষ আমাকে সময় না দেওয়ায় বিষয়টি ঐ ভাবেই পরে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে মেয়ে পক্ষ আমাকে দোষারোপ করে এবং তাদের জমি দিয়ে যাইতে বারণ করে ও গালিগালাজ করে। কিন্তু সে আবার আমার বাড়ির পাশ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেই প্রেক্ষিতে সেদিন আমি তাকে আটকাই এবং এক পর্যায়ে বাকবিতন্ডা হয়। পরে এলাকার লোকজন আমাকে সেখান থেকে নিয়ে আসে। আমি তাকে মারতে চেয়েছিলাম কিন্তু মারতে পারিনি।
এ বিষয়ে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে আইগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একজন গর্ভবতী শিক্ষিকার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।