মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব করতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০.০০ টায় উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহিম মুরাদ, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মিলন মিয়া,ইউপি নারী ও পুরুষ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত এবং গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সাহেব রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহিম মুরাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা ও প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অনধিক তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। গ্রাম আদালত পাঁচ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আবেদনকারী ও প্রতিবাদী পক্ষের একজন করে ইউপি সদস্য এবং স্থানীয় দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তির প্রতিনিধি আদালতের সদস্য হিসেবে থাকেন।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতে ফৌজদারি মামলার ফি ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার ফি ২০ টাকা। ছোটখাটো বিরোধের ক্ষেত্রে থানা বা আদালতে না গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই এ সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এর সুফল গ্রহণ করতে পারেন।
সভায় ডাসার ও কালকিনি উপজেলা গ্রাম আদালতের কো-অর্ডিনেটর নাসির উদ্দিন লিটন গ্রাম আদালতের বিভিন্ন সুবিধা ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি অংশগ্রহণকারীদের গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভরণপোষণসহ বিভিন্ন ছোটখাটো বিরোধ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্বল্প খরচে অল্প খরচে ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তাই সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের বিষয়ে ধারণা দিতে হবে।
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করতে গ্রাম পুলিশদের প্রতিটি ওয়ার্ডের হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।সভা শেষে সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সভার সভাপতি মাহাবুবুর রহিম মুরাদ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গ্রাম আদালতকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে ইউনিয়ন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাবেন।