পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর মৌসুম ঘিরে এবারও জমে উঠেছে বাজার। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠছে লিচুর বেচাকেনা। তবে চলমান তীব্র তাপদাহে গাছেই পুড়ে নষ্ট হচ্ছে অনেক লিচু। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
লিচুর রাজধানী হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদীর লিচু গুণগত মান ও স্বাদের কারণে সারাদেশেই সমাদৃত। চলতি মৌসুমে ব্যাপক ফলন হলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক লিচুতে দাগ পড়ছে এবং পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান চাষিরা।
লিচু চাষি জাকির হোসেন জানান, তার বাগানে প্রায় আড়াইশ থেকে ৩০০টি লিচু গাছ রয়েছে। এবছর ফলন ভালো হলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক লিচু পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
আরেক লিচু চাষি আলমগীর হোসেন জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি হাজার লিচু ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও তাপদাহের কারণে কিছু লিচু নষ্ট হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে এখনো বাজারে লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা লিচু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে পুরো এলাকা মুখরিত। বাজারের আড়তদার শামসুল সরদার জানান, ঈশ্বরদীর লিচু মান ও স্বাদের দিক থেকে দেশের অন্যতম সেরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এখানে এসে সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনে নিয়ে যান। এবছর বাজারে প্রচুর লিচু আসছে এবং বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, বর্তমানে ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপমাত্রার কারণে লিচুতে দাগ পড়ছে এবং অনেক লিচু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে লিচু সংগ্রহে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া লিচু বেশি সময় গাছে থাকার কারণে এবং চলমান তাপদাহের প্রভাবে কিছু ফল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পুরোদমে লিচু বাজারে আসবে। এরপর ধীরে ধীরে মৌসুম শেষের দিকে বাজারে লিচুর সরবরাহ কমতে শুরু করবে।