২০২৫ সালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) স্থানীয় স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার অনুপাতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার অনুপাতে পেকুয়ার তুলনায় চকরিয়ায় বহির্বিভাগে সেবা গ্রহণ প্রায় ৫৭ শতাংশ কম, জরুরি বিভাগে সেবা গ্রহণ প্রায় ৬৭ শতাংশ কম এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার প্রায় ৫৭ শতাংশ কম ছিল। এছাড়া প্রসবপূর্ব সেবা, বহির্বিভাগে রোগী উপস্থিতি, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসব এবং শয্যা ব্যবহারের মতো বিভিন্ন সূচকেও পেকুয়ার অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো বলে বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে শুধুমাত্র এসব পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। রোগী রেফারেল ব্যবস্থা, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, জনসচেতনতা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন পদ্ধতিসহ বিভিন্ন কারণ এ ধরনের পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৃহত্তর জনসংখ্যা ও তুলনামূলক বেশি অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চকরিয়ায় সেবা গ্রহণের হার কেন কম? এটি কি মানুষের আস্থার ঘাটতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, নাকি তথ্য প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতার কারণে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শিরিন আক্তার বলেন,”সরকারি হাসপাতালে মানুষ যেন আরও সহজে ও আস্থার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে পারে, সে জন্য সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন।”
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন,”DGHS-এর প্রকাশিত তথ্য আমরা নিয়মিত পর্যালোচনা করি। কোনো সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণ থাকলে তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।