ভারতের উজানের বিভিন্ন প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলার ধরলা নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৬ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার হওয়ায় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪১ মিটার নিচে রয়েছে। তবে তিস্তার পানি বৃদ্ধির প্রভাবে ধরলা নদীর পানিও ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের লালমনিরহাট অংশে পড়তে শুরু করেছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিন্ধুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভাণ্ডার ও কাকিনা; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এবং সদর উপজেলার মোগলহাট, খুলিয়াগাছ, কুলাঘাট ও রাজপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় উজানের পানি ভাটির দিকে নেমে গেলে নদীর পানি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখাসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।