জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে যমুনা নদী ও কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। অভিযোগের তীর ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোতালেব কাজী ও তার সহযোগীদের দিকে। জনপ্রতিনিধির প্রভাব খাটিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ‘মাটি খেকো’ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের হাড়গিলা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে। যেখানে কৃষকরা মরিচ, মিষ্টি আলু, ভুট্টা ও মটরশুঁটি চাষ করেছেন, ঠিক সেই ফসলি জমির কূল ঘেষে (ভেকু) দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোতালেব মেম্বার ও মাটি ব্যবসায়ী লাল মিয়া এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা।
মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রাক্টর (কাঁকড়া গাড়ি)। অধিকাংশ গাড়ির চালক শিশু-কিশোর এবং তাদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। অনভিজ্ঞ চালকদের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
ঘটনাস্থলে কর্মরত বেকু ও ট্রাক্টর চালকদের সাথে কথা বললে তারা সরাসরি জানান, তারা মোতালেব কাজীর চুক্তিতে কাজ করছেন। তবে এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মেম্বার মোতালেব কাজী বলেন, “আমি ব্যস্ত এখন জামালপুর জেলা শহরে আছি” বলে ফোন কেটে দেয়। তার সহযোগী লাল মিয়া উপস্থিত থাকলেও তিনি দায় চাপিয়ে দেন মেম্বারের ওপর।
স্থানীয় কৃষকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট দিয়ে তাকে প্রতিনিধি বানিয়েছি আমাদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু তিনি এখন আমাদের ফসলি জমি আর নদী গিলে খাচ্ছেন।” নদী ভাঙন কবলিত এই এলাকায় এভাবে মাটি কাটলে চলমান বর্ষা ও বন্যায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে এবং ‘মাটি খেকো’ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।