যেকোনো কথার শুরু থেকে শেষ না শুনলে এবং যেকোনো লেখার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বসহকারে না পড়লে মূল ঘটনার কিছুই বোঝা সম্ভব হয় না। দেশের সচেতন মানুষ এবং সাংবাদিক হিসাবে যেকোন ভালো সরকার এবং রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়ে থাকেন এবং তাদের পক্ষে লিখেন-কাজ করেন,যাতে করে ভালো কাজের প্রতি বেশি করে উৎসাহিত হয় এবং ভালাে কাজের ফসল মানুষ বৈষম্যহীনভাবে ভোগ করার সুযোগ পায়। সেই আশায় বিভিন্ন পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি সকলের সেই আশা পূরণ হয় না। লক্ষ্য করা যায় সমাজের জন্য যাদের কোন অবদান থাকেনা,তারপরেও তারা পেয়ে থাকে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা। এরপরেও কোন কোন সংগঠন-ব্যক্তি কোন সরকারি দলকে সমর্থন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন-কোন সংগঠন-ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রধানকে গুরুত্ব বা সমর্থন দিয়ে তাদের পাশে থেকে কাজ করেন এবং এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। বাংলাদেশ বহুমুখী গণতন্ত্র চর্চার দেশ-বাস্তবে কাজ হোক বা না হোক। দেশের ভালো মনের এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার দেশপ্রেমিক মানুষ-সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ভালোবাসেন এবং শহীদ জিয়া-বেগম জিয়াকে শ্রদ্ধা করেন। কোন অংশ বেগব জিয়াকে সমর্থন দিয়ে কাজ করেন কোন অংশ শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করেন,তবে জাতীয়তাবাদী চেতনার অংশে বেশি। শেখ হাসিনা দেশবিরোধী কাজ করলেও সেগুলো তার অংশের মানুষের কাছে ভালো লাগে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেহেতু স্বাধীন জাতির রাজনীতি করার জন্য স্বাধীন চেতনার দল। সুতরাং সেই চেতনার সংগঠন-মানুষ বেগম জিয়ার আহবানে সাড়া দেন। শেখ হাসিনার হাত থেকে দেশ-জাতিকে রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রয়োজনের সময় জাতির কাছে আহ্বান জানিয়ে মাঠে নেমে আসতে বলেন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়ান। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বেগম জিয়ার আহবানের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে জাতির পাশাপাশি বাংলাদেশ ফেডারেল-ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকগণও প্রয়োজনীয় সময় প্রয়োজনীয় কর্মসূচি সম্পাদন করেন। বিএনপি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনড় অবস্থানে থেকে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেন। জাতীয় স্বার্থে বিএনপির পাশে দাঁড়ানো দায়িত্ব মনে করে বিএফইউজে-ডিইউজের মত গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ-কর্মীবৃন্দ বেগম জিয়ার পাশে থাকেন। আমি যেহেতু ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য,সেহেতু নেতৃত্ব মেনে এবং দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ থেকে আমাকেও নীতির প্রশ্নে বিগত দিনে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। তাছাড়া বিএনপি’র সাথে একসময় সরাসরিভাবে জড়িত ছিলাম এবং দায়িত্বে না থেকেও কাজ করেছি। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছে এবং সেসময়ও আমি আমার অবস্থান থেকে অংশগ্রহণ করেছি। সেসময়ের কথাগুলো এখনো মনে পড়ে। মানুষের জীবনে এমন এমন স্মৃতি থাকে যা কখনো মানুষ ভুলতে পারে না। দেখুন-বেগম জিয়ার আহবানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিরোধী সকল আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন পেশ-শ্রেণীর মানুষ এসে শক্তিশালী আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন-সংগ্রামের মুখে টিকতে না পেরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ত্যাগী মানুষের অতীতের স্মৃতিগুলো হৃদয় থেকে পালিয়ে যায়না এবং সে সুযোগও নাই। তাই অতীতের স্মৃতিগুলো প্রতিটি মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আজ অতীতকে মনে পড়ে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে পড়বেই। তাই লেখতে হবেই। সুতরাং সচেতন সাংবাদিক নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমিক সাধারণ সাংবাদিকরাও বিভিন্ন স্থান থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিক নেতাদের পাশে দাঁড়ান। লক্ষ্য স্বৈরাচারের পতন ঘটানো। সেই লক্ষ্যে কেউ পায়ে হেঁটে কেউ গাড়িতে করে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে কষ্ট স্বীকার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিএফইউজে-ডিইউজের পক্ষ থেকে যেসকল আন্দোলন-সংগ্রাম করা হয়েছে তাও স্মরণীয়। সাধারণ সাংবাদিকরা খেয়ে না খেয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিতরেই বা কাছেই ছিলেন এবং নেতারা ডাকামাত্র সাংবাদিকরা স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এর ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনাপন্থী সাংবাদিকরা পরিকল্পনা করতে থাকে কি করে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের কার্যালয় দখলে নেওয়া যায় এবং কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করা যায়। সেই পরিকল্পিত চিন্তা অনুযায়ী বিএনপিপন্থী সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে দখল করে নেয়। তারপরেও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবে-লবিতে বসে-মাঠে দাঁড়িয়ে এবং হেঁটে সময় কাটিয়ে কর্মসূচি চালু রাখেন। ইউনিয়ন বন্ধ থাকার পরেও কাজ চালু রাখা হয়েছে যা অনেক বড় বিষয়। কার্যালয় দখল করে নেওয়ার পরে ডিইউজের সাবেক সভাপতি,কবি আবদুল হাই শিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক,জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কার্যালয় পুনরুদ্ধারের চিন্তা মাথায় রাখেন। সেই চিন্তা থেকে জাহাঙ্গীর আলম প্রধান একদিন আমাকে বলেন ডিইউজের কার্যালয় উদ্ধার করতে না পারলে মাঝখানের ওয়াল ভেঙ্গে পুরো অফিস ফ্যাসিস্ট সাংবাদিকরা দখলে নিয়ে যাবে তখন প্রবেশ করে কাজ করা যাবেনা। প্রধান আরো বলেন আমি ইসি কমিটিসহ অনেক নেতার সাথে কথা বলেছি,কিন্ত কেউ সাহস নিয়ে ইউনিয়নের কার্যালয় উদ্ধারের দায়িত্ব নিতে চায় না। তিনি আরো বলেন আমাদের ডিইউজের রেজিঃ নাম্বার সরকার অনুমোদিত নাম্বার এবং আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন এবং দখলদাররা চলে আমাদের নাম্বার ব্যবহার করে। ডিইউজের ইউনিয়ন উদ্ধার হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সাংবাদিকরা যোগাযোগ করার-বসার-চলমান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া আমরা ইউনিয়নে বসে কাজ করার সুযোগ না পেলে আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম শক্তিশালী করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি তার সব কথার হিসাব করে ইউনিয়ন উদ্ধারের জন্য ঝুঁকি নিতে রাজি হইলাম। যেখানে হাজার-হাজার সাংবাদিক বসার সুযোগসহ কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সাংবাদিকদের রুটি-রুজির প্রশ্ন রয়েছে। সুতরাং সেখানে আমার একার হিসাব কোন হিসাবেই পরে না। এদিকে আওয়ামী দুঃশাসনের আমল এবং আমার উপর হামলা-মামলাও হতে পারে। বিপদ আসতে পারে তা জেনে-বুঝেও ঝুঁকি নিলাম। কার্যালয় উদ্ধারের দিন ধার্য করা হলো ২৬ মার্চ ২০১৫ ইং তারিখ দুপুর ১২ টা ১ মিনিটের সময়। প্রধান আমাকে বলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের দখলদার দোসর সাংবাদিকরা ২৬ মার্চ ২০১৫ ইং তারিখ যখন টেনিস গ্রাউন্ডের মাঠে আলোচনা করতে থাকবে তখন আপনার দায়িত্বে তালা খুলে কার্যালয় উদ্ধার করে প্রবেশ করতে হবে। প্রধান ভাই আরো বলল তালা খোলার সময় আপনার সাথে চাবিওয়ালা এবং অফিস সহকারী আরমান থাকবে। আপনি গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে সব তালা খোলার পরেই আমাদেরকে লবিতে গিয়ে ডাকবেন। আর চারিদিকে নজর রাখবেন। আপনার উপরে যাতে কোন আঘাত না আসতে পারে সেই লক্ষ্যে মাঠে আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা থাকবে যাদের সাথে আপনারও ভালো সম্পর্ক আছে। তার কথা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় এবং সাংবাদিকদের স্বার্থে গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আরমান এবং চাবিওয়ালাকে নিয়ে। এরপর তালা চাবিওয়ালা ১ টি তালা খোলার পরেই টয়লেট থেকে ২ জন লোক বের হয়ে যাওয়ার চেস্টা করে,এসময় তাদেরকে আমি বাধা দিয়ে টয়লেটেই রাখি। তারা বের হয়ে গিয়ে যদি দোসরদেরকে সংবাদ দেয়,তবে জামেলা হবে। তাই তাদের বল্লাম সব তালা খোলার পরে বের হবে তার আগে নয়। এক পর্যায়ে তালা চাবিওয়ালা বলে আমি তালা খুলবো না,এখানে ঝামেলা আছে এবং সেও বের হয়ে যেতে চায়। তখন তাকে বলি তালা না খুলে বের হতে পারবা না। যাইহোক শেষ পর্যন্ত তালা খোলা হয়েছে। এরপর লবিতে গিয়ে সংবাদ জানানো হয়। তারপর জাহাঙ্গীর আলম প্রধান-এম আব্দুল্লাহ,ডিইউজের চলমান দায়িত্বরত সভাপতি,শহীদুল ইসলামসহ কতিপয় সাংবাদিক মিলে ডিইউজের কার্যালয় প্রবেশ করি এবং বিকালে ব্যানার লাগিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয় এবং সেখানে উচ্চ পর্যায়ের সকল নেতারাই উপস্থিত থাকেন। কার্যালয়ে উদ্ধারের কিছুদিন পর ছিলাম আত্মগোপনে। আমাকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য দোসরেরা গাড়ি নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টোদিকের রাস্তায় ছিল। সেই রাত আমি প্রেসক্লাবের লবিতে কাটিয়েছিলাম। আমার উপরে বড় ধরনের হামলা হতে পারে এবং মামলাও হতে পারে সেই জন্য আমি গ্রামের বাড়িতে যাওয়া আসা করতাম এবং ঢাকায়ও আসতাম। আমার উপরে যেই ঝামেলা হওয়ার কথা ছিল সেই ঝামেলা যাতে না হয় সেজন্য আমাকে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি সম্পাদন করতে হয়েছে এবং আমি কোন নেতাদের সহযোগিতা পাইনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন যদি কার্যালয় না খুলতাম তাহলে ৫ আগস্ট ২০২৪ এর আগে ডিইউজের অফিস খোলা হত না। ২৬ মার্চ ২০১৫ ইং তারিখ বেলা ১২ টা ১ মিনিটের সময় উক্ত কার্যালয় উদ্ধার করে আমি কথা রেখেছি। ঐদিন বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম প্রধান আমার হাত উঁচু করে সবাইকে দেখিয়ে বলেন এই বয়স্ক মানুষটি কার্যালয়ে উদ্ধারে অবদান রেখেছেন। আশা ছিল আমাদের নেতারা ত্যাগীদের ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি বিষয় হচ্ছে,এদেশে যারা ঝুঁকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তাদের পিছনে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়। জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং আমরা যারা কার্যালয় উদ্ধারে এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছি তারা সকলেই আজ বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের শিকার। যাদেরকে আন্দোলন-সংগ্রামে দেখি নাই এবং সমালোচিত তারাই হয়েছে প্রেসক্লাবের মেম্বার এবং নেতারা তাদেরকে দিচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ত্যাগী এবং স্পষ্টবাদীরা নেতাদেরকে তেল মালিশ করতে পারে না এবং সেটাই হলো বড় দুর্বলতা এবং এই দুর্বলতার কারণেই বৈষম্যতার শিকার। ইউনিয়ন অফিস উদ্ধার করার কারণে আমি কতিপয় দোসর সাংবাদিকের হামলার শিকার হয়েছিলাম। আমি কোন সহযোগীতা পাই নাই। ইউনিয়ন অফিস কি আমার পৈতৃক বা আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল? অতীত ইতিহাস মনে না রাখার ফলে কি হয়? অনেক শক্তিশালী সংগঠন দুর্বল হয়। মানুষকে একবার প্রয়োজন হয় না-মানুষকে মানুষের যে কোন সময় প্রয়োজন হয়। সুতরাং মানুষের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন রাখা উত্তম বিষয়। নেতাদের নীতি ঠিক থাকলে কর্মীরা যেকোনো সময় নেতাদের আহবানে সাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তা না করে নেতারা তাদের পছন্দের কতিপয় দালাল-চাটুকার নিয়ে ভোগ করবে আর ত্যাগীদেরকে দুর্বল বানিয়ে রাখবে,তাহলে কি কোন সংগঠন শক্তিশালী হতে পারে? তাই নেতাদের নীতি ঠিক রেখে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সবচেয়ে বেশি উত্তম বিষয় হবে।