মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো: খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলোচিত এখলাস হত্যা মামলায় দু,জন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের দুজনের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে, আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর ৪ আসামির বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমান করতে ব্যার্থ হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। গতকাল খুলনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত- ৩ এর বিচারক আবীর পারভেজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঔই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুর রহমান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ফুলতলা উপজেলার দামোদর পশ্চিম পাড়া এলাকার আরিফ চৌধুরীর ছেলে আজিজুল চৌধুরী এবং একই এলাকার সরদারপাড়ার আক্তার সরদারের ছেলে রুবেল সরদার। খালাস প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আলাউদ্দিন চৌধুরী, মো: হারুন অর রশিদ ওরফে মো: হারুন খা, আশরাফুল আলম ওরফে কচি সরদার। আদালত সুত্রে জানা্গেছে, দামোদর গ্রামের জনৈক আলাউদ্দিন চৌধুরীর সাথে নিহত এখলাসের ব্যাবসায়ীক দ্ধন্দ ছিল। এ ঘটনা নিয়ে প্রায় এখলাসকে হুমকি ধামকি দিত।এমনকি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আলাউদ্দিন তাকে হত্যার ভয়ভীতি দিত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে এখলাস ও এলাকার চায়ের দোকানী জহির কাজীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ফুলতলা বাজার হতে বাড়ি দামোদরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত ১ টার দিকে বাড়ির সামনে পৌছালে পুর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামী আজিজুল ইসলাম, মো: হারুন খা, রুবেল সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৭ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে এখলাসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ভিকটিম মোটরসাইকেল রেখে দৌড় দিয়ে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করতে থাকে এবং তাকে বাচানোর জন্য আকুতি জানাতে থাকে। তার চিৎকার শুনে ঘর থেকে স্ত্রী, পুত্র সহ বাড়ির অন্যান্যরা এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত এখলাসকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এখলাসের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জন আসামি র নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনাম আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর – ৪। ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক মো: শাহাবুদ্দিন চৌধুরী ৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।