কথায় কথায় তৈয়ব আলী জানান, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাঁকাইল বিশ্বাস পাড়ায় জন্ম নেন তিনি। তার পিতার নাম তছির উদ্দিন বিশ্বাস। ১৫ বছর ধরে চা বিক্রি করছেন। সংসাবে স্ত্রীসহ এক ছেলে দুই মেয়ে। দুই মেয়ের বিবাহ হয়ে গেছে। ছেলে মটরশ্রমিকের কাজ করেন। মাঝে কিছু দিন অভাবের তাড়নায় চায়ের দোকান ছেড়ে ভ্যান চালিয়েছেন। হঠাৎ করে পায়ে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরমর্শে ভ্যান চালানো বন্ধ করে ছোট্র একটি দোকান ভাড়া নিয়ে শুরু করেন আবারও চা বিক্রি। নিজে সুস্থ থাকার জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকার ওষুধ খেতে হয়।
বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ আমার দোকানে চা খেতে আসেন। নিন্ম আয়ের মানুষই বেশি আসেন। তাদের কথা ভেবে নিজের লাভের কথা বাদ দিয়ে চিনি ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরেও আগের দামে চা বিক্রি করছি। প্রতিদিন গড়ে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার চা বিক্রি হয়। হাজার টাকার ওপরে খরচ হয়। সেই সাথে প্রতি মাসে দোকান ভাড়া সাত শত ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ছয় শত টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক দরিদ্র মানুষ আসে চা খেতে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেই না।
চায়ে বাড়তি স্বাধের ব্যাপারে জানান, ভালো মানের চায়ের পাতি, আদা, কালোজিরা, গরমসমলাসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে চা তৈরি করার জন্য চায়ে বাড়তি স্বাধ হয়।
পাশ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার প্রাইভেট শিক্ষক বিকাশ বাবু আসেন নিয়মিত চা খেতে। তিনি জানান, তৈয়ব আলীর হাতের রং চা খেয়ে খুব তৃপ্তি পাই। তাইতো প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এখানে আসি চা খেতে। আর দামও তুলনামূলক কম রাখে।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের ভ্যান চালক আশরাফ আলী রোজ রাতে তৈয়ব আলীর ভাবী চা খেতে আসেন। তিনি বলেন, তৈয়ব আলীর হাতের চা না খেলে তার ঘুম হয় না। এখানে চা থেকে আসলে এলাকার অনেক মানুষের সাথে আড্ডা দেওয়া যায়। আমার কাছে খুব ভালো লাগে।
বাঁকাইল গ্রামের রাজমিস্ত্রি চুন্নু শেখ রোজ আসেন চা খেতে এখানে এসে প্রায় দুই থেকে তিন কাপ লাল চা পান করেন। তিনি বলেন, সারাদিন খুব পরিশ্রম করি, রাতে তৈয়ব আলীর হাতের চা খেলে সমস্থ ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তৈয়ব কালিজিরা ও গরমমসলাসহ বাড়তি কিছু উপাদান দেন চায়ে সে জন্য চায়ের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।