রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার শিলছড়ি বালুচর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের তার, খুঁটি ও ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
সোমবার রাতে শিলছড়ি বালুচর এলাকায় প্রশান্তি পার্ক ও আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বিদ্যুতের তারের সংঘর্ষ হলে ১১ কেভি লাইনের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময় বিদ্যুতের খুঁটির নিচের অংশ ভেঙে যায় এবং পাশে থাকা ট্রান্সফরমারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাকটির নম্বর মেট্রো-ট-২৪-৬৩৭৪। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরপরই তারেক নামের এক ব্যক্তি ট্রাকের চাবি ও কাগজপত্র নিয়ে নেন। পরে এসব কাগজপত্র ব্যাটালিয়ন আনসারের সঙ্গে থাকা সাইফুল নামের এক কমান্ডারের কাছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক আহমদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বন বিভাগের মামুন, লেঞ্জার অফিসারও সেখানে আসেন। এ সময় ক্ষয়ক্ষতি ও দায়-দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত সমাধানের পরিবর্তে ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা চলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিলম্ব হয়।
এদিকে ট্রাক মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। সমিতির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কাপ্তাই উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদ মেম্বারও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমদ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমিতির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয়। ট্রাকের চালককে ঘটনাস্থলে অপমান ও হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরে আবাসিক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তুলনামূলকভাবে শান্ত ও ভদ্র পরিবেশে কথা বলেন এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন।
এ সময় বাস ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কাপ্তাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নাহিয়ান ডালিম বলেন, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি সবাইকে শান্ত থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেন। এর আগে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, যানবাহন চলাচলসহ স্বাভাবিক জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে জানান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে; কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্রুত ও মানবিক ভূমিকা প্রয়োজন। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আইন ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় যেন অযথা সময়ক্ষেপণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুতের মতো জনগণের মৌলিক সেবার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা যেকোনো সমস্যার পর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া চললেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।